দেশ – একদিকে জন্মদিন, অন্যদিকে জীবনের অন্যতম বড় লড়াই। রিংয়ের এক পাশে ভারতের লাভলিনা বরগোহাঁই, অন্য পাশে চিনের বাও জিয়াই। কয়েক মিনিটের সেই লড়াইয়ের শেষে হাতে উঠল সোনার পদক। নিজের জন্মদিনেই এশিয়ান গেমসে প্রথমবার স্বর্ণপদক জিতে যেন পুরনো এক আক্ষেপেরও উত্তর দিয়ে দিলেন ভারতের অলিম্পিক্স পদকজয়ী বক্সার।
জাপানের নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ৭৫ কেজি বিভাগে ফাইনালে নেমেছিলেন লাভলিনা। তাঁর সামনে ছিলেন চিনের বাও জিয়াই। ম্যাচ শুরুর আগেই প্রত্যাশার চাপ ছিল তাঁর উপর। কিন্তু রিংয়ে নামার পর সেই চাপকে যেন নিজের শক্তিতে বদলে ফেললেন ভারতীয় বক্সার।
প্রথম রাউন্ড থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন লাভলিনা। এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিপক্ষকে সহজ জায়গা দেননি। লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, তবু শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে প্রথম রাউন্ড নিজের নামে করেন তিনি। প্রথম ধাপেই যেন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আজকের দিনটা তিনি ছাড়তে রাজি নন।
দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও বাড়ল লড়াইয়ের গতি। এবার চিনের বাও জিয়াইকে প্রায় কোনও সুযোগই দিলেন না লাভলিনা। তাঁর দাপটে দ্বিতীয় রাউন্ডের ফল দাঁড়াল ৪-১। শেষ রাউন্ডে পৌঁছেও একই ছন্দ ধরে রাখলেন তিনি। চিনা বক্সার চেষ্টা করেও লাভলিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে পারলেন না। তৃতীয় রাউন্ডেও ৪-১ ব্যবধানে জয় এল ভারতের।
তারপরই এল সেই মুহূর্ত—লাভলিনা বরগোহাঁই এশিয়ান গেমসের ৭৫ কেজি বক্সিংয়ে সোনার পদকজয়ী।
এই সোনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি পুরনো গল্প। গত এশিয়ান গেমসে রুপো পেয়েছিলেন লাভলিনা। পদক এসেছিল, কিন্তু সোনার স্বপ্নটা অপূর্ণই থেকে গিয়েছিল। সেই আক্ষেপ এবারও তাঁর সঙ্গে ছিল। তাই এবারের ফাইনাল শুধু আর একটি ম্যাচ ছিল না। ছিল গতবারের অসম্পূর্ণ গল্পটা শেষ করার সুযোগ।
আর সেই গল্পের শেষটাও হল একেবারে সিনেমার মতো। নিজের জন্মদিনেই এল সেই সোনা, যার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
লাভলিনার এই জয় ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিল। ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসে মেরি কমের সোনার পর মহিলা বক্সিংয়ে এটাই ভারতের দ্বিতীয় স্বর্ণপদক।
তিরন্দাজি, ক্রিকেটের পর বক্সিংয়েও সোনা—নাগোয়ার মাটিতে ভারতীয় শিবিরে তাই এখন একের পর এক সাফল্যের গল্প। আর সেই গল্পের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায় হয়ে রইল লাভলিনার জন্মদিনের লড়াই।
যে দিনটায় সাধারণত কেক কাটা হয়, শুভেচ্ছা আসে, প্রিয়জনেরা পাশে থাকে—লাভলিনা সেই দিনটাকে বেছে নিয়েছিলেন আরও কঠিন এক পরীক্ষার জন্য। হাতে কেক নয়, উঠল সোনার পদক। আর গতবারের রুপোর আক্ষেপ? সেটাও যেন আজ রিংয়ের মধ্যেই রেখে এলেন ভারতের এই চ্যাম্পিয়ন।



















