নয়াদিল্লি: দশেরা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাবণ দহন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি শ্রীরামের আদর্শ, রামরাজ্যের ধারণা এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে আত্মবিশ্বাস ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রামলীলা ময়দানের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, “বিজয়া দশমীর শুভক্ষণে, আমি শ্রী রাম, মা জনকী ও বজরংবলীর চরণে মাথা নত করছি। আমি সকল দেশবাসীকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানাই।” বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই উৎসব শুধু দেশজুড়ে পালিত একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের জীবনশক্তির প্রতীক। তাঁর কথায়, দশেরা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের উদ্যাপন।
এদিন বক্তব্যে রামরাজ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যায়, রামরাজ্য এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে কোনও নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবেন না, প্রত্যেকে ন্যায়বিচার পাবেন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। ক্ষমতার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শাসন করা নয়, বরং জনকল্যাণে কাজ করা—শ্রীরামচন্দ্রের আদর্শ থেকে এই শিক্ষাই পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘নাগরিক দেবো ভব’ নীতিকে পাথেয় করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান মোদী।
রামায়ণের কাহিনি উল্লেখ করে আত্মনির্ভরতার বার্তাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকট যত বড়ই হোক বা প্রতিবন্ধকতা যত কঠিনই হোক, সাফল্যের জন্য নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। শ্রীরামের লঙ্কা অভিযানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সামনে সমুদ্র এবং দূরে লঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সংকল্প থেকে সরে আসেননি শ্রীরাম। মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগিয়ে অসম্ভব লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব—এই শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।
দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে বিকশিত ভারত ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে শ্রীরামের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আত্মবিশ্বাস, সংকল্প, জনকল্যাণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দশেরার রাবণ দহন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল ধর্মীয় ঐতিহ্য, ন্যায়বিচার, সমান সুযোগ এবং দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গ। শ্রীরামের আদর্শকে সামনে রেখে জনকল্যাণমুখী শাসন ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণের বার্তাই দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে তুলে ধরেন তিনি।




















