লেহ, লাদাখ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ পেল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ। রবিবার লেহ শহরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় এই বেঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। দেশের উচ্চতম এলাকায় অবস্থিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হিসেবে এই উদ্যোগ নতুন নজির তৈরি করেছে। তবে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু উচ্চতার নিরিখে নজির গড়া নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থাকে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখের বাসিন্দাদের কাছে আদালতে পৌঁছনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা, দুর্গম রাস্তা এবং তীব্র শীতের প্রতিকূলতা পেরিয়ে আইনি পরিষেবা পেতে অনেককেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতায়াতের খরচ, সময় এবং শারীরিক কষ্ট বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। লেহ-তে হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই সমস্যার অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের জন্য একটি অভিন্ন হাইকোর্ট রয়েছে। এর প্রধান বেঞ্চ জম্মু ও শ্রীনগরে অবস্থিত। নতুন বেঞ্চ চালু হওয়ায় লাদাখের বাসিন্দারা উচ্চ আদালতের বিচারিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যে সমস্ত মামলায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, সেগুলির জন্য দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াতের প্রয়োজন কমতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিচারব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য, আদালত কতটা উঁচুতে অবস্থিত, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল বিচারপ্রার্থীদের কাছে তা কতটা সহজলভ্য। লাদাখের মতো দুর্গম অঞ্চলে বিচার পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯২৮ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি লালা কানওয়ার সেন-সহ তিন বিচারপতিকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। সেই সূচনার প্রায় ৯৮ বছর পর লাদাখে নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চের উদ্বোধন বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে এসেছে।




















