আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাগাতার হামলার পাল্টা জবাব দিতে রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড়সড় ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল রফতানি টার্মিনাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার জেরে আগুন লাগার খবর মিলেছে। এই ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর জখম হয়েছেন আরও পাঁচ জন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে চালানো ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম হামলা এটি। হামলার নিন্দা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, দেশের ১৫টি অঞ্চল, অধিকৃত ইউক্রেনীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর এলাকায় মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ সেনা। তবে এই বিপুল সংখ্যক ড্রোনের হামলা এবং ধ্বংসের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় শহরের সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনাল এবং রুচি (Ruchi) তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি, রাশিয়ার অনলাইন খুচরো বিক্রেতা সংস্থা ‘ওজোন’ (Ozon)-এর একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং প্রযুক্তি সংস্থা ‘ভিকে’ (VK)-এর একটি ডেটা সেন্টারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় বলে খবর।
তবে ইউক্রেনের এই হামলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ক্রেমলিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ (TASS)-কে দেওয়া বক্তব্যে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “যতই চেষ্টা করুক, মস্কোর কোনও ক্ষতি করতে পারবেন না ভলোদিমির জেলেনস্কি।”
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একদিকে রাশিয়া বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।




















