কলকাতা: চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশি ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বামেদের বুকস্টল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রাতে সিপিএমের ওই বুকস্টল ভেঙে দিতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়েছিল পুলিশ। আর রবিবার সকালে সেই স্টলেই হাজির হলেন তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুধু উপস্থিতিই নয়, বুকস্টল থেকে বইও কিনলেন তিনি।
বামেদের বই বিক্রি এবং বুকস্টল করার অধিকারের পক্ষে আগেই সরব হয়েছিলেন কুণাল। তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতেও বামেদের স্টল থেকে বই কিনেছেন, ভবিষ্যতেও কিনবেন। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল রবিবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের বুকস্টলে তাঁর উপস্থিতিতে।
কুণাল ঘোষ বলেন, “প্রতি বছর এখানে আসি। তবে মাঝে কয়েক বছর এই স্টলে আসতে পারিনি। আসলে এই স্টলে মার্কসবাদী সাহিত্যের পাশাপাশি সাধারণ সাহিত্যের সংকলনও থাকে। গতকাল রাতে বুলডোজার এসেছিল। তাছাড়া সুদীপ (সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত) আমার বন্ধু হন। আমার ইচ্ছা ছিল বিমান বসুকে নিয়ে যে বই প্রকাশ হয়েছে, ‘আমাদের চেয়ারম্যান’, সেটা সংগ্রহ করার। সেটা হয়তো আমি আমার পাড়ার স্টল থেকে কিনে নিতে পারতাম, কিন্তু প্রতিবাদ (বুলডোজার) স্বরূপ উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতায় এসে কিনলাম।”
রবিবারের এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে আরও একটি বিষয়। কুণাল ঘোষ যখন বামেদের বুকস্টলে উপস্থিত, তখন সেখানেই ছিলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও। রাজনৈতিক মঞ্চে দু’পক্ষের নেতাদের মধ্যে প্রায়ই বাকযুদ্ধ দেখা গেলেও এ দিন একই বুকস্টলে তাঁদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
বামেদের বুকস্টলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে কুণালের বই কেনাকে অনেকে প্রতিবাদের বার্তা হিসেবেই দেখছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম ও তৃণমূলের রাজনৈতিক দূরত্ব কমছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দুই দলের সম্পর্কের সমীকরণে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।




















