রাজ্য – কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার কেন্দ্রীয় অনুমোদনের পর ফের রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের নাম বদলের প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে সামনে এনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন মিললেও পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়ার পরই প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কেরলবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়া স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের বিষয়। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একাধিকবার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরও কেন কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিলছে না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বর্ণানুক্রমিক তালিকায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নাম থাকার কারণে জাতীয় স্তরের নানা ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। তাঁর কথায়, পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে সরকারি বৈঠক—বহু জায়গাতেই নামের কারণে বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই কারণেই রাজ্যের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের কথা মাথায় রেখে ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব আনা হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রথমবার প্রস্তাব পাঠানোর পর কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়—বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি—তিন ভাষাতেই এক নাম থাকতে হবে। সেই অনুযায়ী সংশোধিত প্রস্তাব পুনরায় পাশ করিয়ে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হলেও এখনও পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই বিষয়টি আটকে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের সময় বাংলা নিয়ে বক্তব্য রাখলেও বাস্তবে বাংলাবিরোধী মনোভাব দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কেরলের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার ফলেই দ্রুত অনুমোদন সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “অলিখিত যোগ নয়, এখন সেটা লিখিত যোগ।” যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, অন্য কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা তাঁর নেই এবং সব রাজ্যের উন্নয়নকেই তিনি সমর্থন করেন। পাশাপাশি তিনি দৃঢ় সুরে জানান, পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার অনুমোদন শেষ পর্যন্ত আদায় করেই ছাড়বেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠায়। তবে বিদেশ মন্ত্রক তখন আশঙ্কা প্রকাশ করে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র Bangladesh-এর সঙ্গে নামের মিল বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এরপরও প্রস্তাবটি বাতিল হয়নি, আবার চূড়ান্ত অনুমোদনও পায়নি।
ভারতে কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিভিন্ন দফতরের মতামত নেয়। পরে সংসদে বিল পাশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়। সেই প্রক্রিয়াতেই সম্প্রতি ‘কেরলম’ নামটি অনুমোদন পেয়েছে।
কেরল সরকারের যুক্তি ছিল, মালয়লম ভাষায় রাজ্যের প্রচলিত নাম ‘কেরলম’, তাই সংবিধান-সহ সব সরকারি ক্ষেত্রে সেই নাম স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। কেন্দ্র সেই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।




















