দেশ – সারাদেশে স্কুলের পাঠ্যবই সংকট এবং বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন রোধে এবার কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার এনসিইআরটি ও শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বৈঠকে মূলত নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ঘাটতি এবং গ্রামীণ এলাকায় বই পৌঁছাতে দেরি হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, বইয়ের অভাবে কোনওভাবেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হওয়া চলবে না। তিনি দ্রুত মুদ্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন এবং বিশেষ করে নবম শ্রেণির বই সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি কড়া বার্তা দেন।
শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় শুধু ছাপানো বইয়ের উপর নির্ভর না করে ডিজিটাল মাধ্যমকেও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ই-পাঠশালা’ পরিষেবাকে আধুনিকীকরণ ও আরও ব্যবহারবান্ধব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার শিক্ষার্থীরাই সহজে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের কৃত্রিম ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রসার ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পাঠ্যসামগ্রী পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


















