পুরুলিয়া – পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কুড়মি নেতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর বৈঠক হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিধানসভা নির্বাচনে লালমাটিতে কুড়মিদের সমর্থন কি গেরুয়া শিবির (BJP) পাবে?
সোমবার সংসদ ভবনে দুপুরে অমিত শাহের সঙ্গে মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ছয়জন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। দাবিগুলি হল: কুড়মি জনজাতিকে আদিবাসী তালিকাভুক্ত করা, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সারনা ধর্মের পৃথক কোড নিশ্চিত করা। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দাবিগুলিতে আশ্বাস দিয়েছেন বলে আদিবাসী কুড়মি সমাজ জানিয়েছে।
যদিও নির্বাচনের আগে এই তিনটির মধ্যে কোনো দাবি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কুড়মি জনজাতিকে আদিবাসী তালিকাভুক্তির বিষয়ে রাজ্য থেকে প্রয়োজনীয় কমেন্ট না আসায় তা এখন সম্ভব নয়। কুড়মালি ভাষা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সারনা ধর্মের পৃথক কোড পাস করানোর জন্য তা সংসদে উত্থাপন করতে হবে, ফলে আগামী বাদল অধিবেশন পর্যন্ত কোনও কার্যক্রম সম্ভব হবে না। মূল মানতা বলেন, “আশ্বাসে কিছু হবে না, দাবিগুলি কার্যকর হবে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত আমরা ভোটে বিজেপিকে সমর্থন দেব না।”
গত অক্টোবর ও ফেব্রুয়ারি মাসে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো ‘নো ভোট টু টিএমসি’ ঘোষণা করেছেন। তিনি শর্ত দিয়েছেন, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্র পদক্ষেপ নিলে তবেই বিজেপিকে সমর্থন দেবেন। এই প্রেক্ষাপটে কুড়মালি ভাষার অন্তর্ভুক্তি ও সারনা ধর্মের পৃথক কোড বিষয়ক দাবি পূরণের জন্য কেন্দ্রের কাছে দরবারও করেছেন।
এদিকে কুড়মি আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদানের পর। যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মূল মানতা রাজেশ মাহাতোর সঙ্গে বৈঠক করে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে দাবিদাওয়া জানালে জঙ্গলমহলে জল্পনা আরও বেড়ে যায়। বৈঠকে রাজেশ মাহাতো ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।




















