রবীন্দ্র নারায়ণ রবি পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথগ্রহণ

রবীন্দ্র নারায়ণ রবি পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথগ্রহণ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার অপেক্ষার মধ্যে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। শপথগ্রহণের পরই তাঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে’। রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বার্তাতেও বাঙালি অস্মিতাকে স্পর্শ করেন আর এন রবি।
সিভি আনন্দ বোসের বিদায়ের মতোই, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আর এন রবি মা দুর্গার আশীর্বাদ চেয়ে রাজ্যবাসীর প্রতি বার্তা দেন। তিনি লেখেন, মা দুর্গার কাছে জ্ঞান ও শক্তি প্রার্থনা করি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার জন্য। লোকভবনে নতুন যাত্রা শুরু করে, তিনি শুধুমাত্র এটুকুই বলেননি, বরং লেখায় বাঙালি অস্মিতার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঋষি অরবিন্দ, সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করেছেন।
আর এন রবি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। বাংলাকে তিনি ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ভূমিই এমন মাটি যেখানে প্রাচীন বৈদিক জ্ঞানচর্চা বহু শতাব্দী আগে বিকশিত হয়েছিল। গৌতম বুদ্ধের বাণীও এখানে নতুন ব্যাখ্যা ও রূপ পেয়েছিল। ভক্তি আন্দোলনের ধারাও এই অঞ্চলে শক্ত ভিত গড়ে তুলেছিল, যা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকেও প্রভাবিত করেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিদেশি আক্রমণ এবং দীর্ঘকালীন শাসনের সময় দেশের সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় ধ্বংসের মুখে পড়লেও বাংলার মাটি বহু মহান ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক মহাপুরুষকে জন্ম দিয়েছে। চৈতন্য মহাপ্রভু ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। পরবর্তীতে এই বাংলাই উপহার দিয়েছে ভগবান রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বকে, যাদের ভাবনা ও দর্শন বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলেছে।
বাংলা সাহিত্যের প্রসঙ্গে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন, যিনি ‘বন্দে মাতরম্’ রচনা করে স্বাধীনতা আন্দোলনের শক্তিশালী আহ্বান তৈরি করেছিলেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও স্মরণ করে তিনি বাংলা সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা সমগ্র বিশ্বের সাংস্কৃতিক ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া বিপ্লবী চিন্তাবিদ ঋষি অরবিন্দ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top