ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও চুক্তিতে অনীহা ট্রাম্পের, পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও চুক্তিতে অনীহা ট্রাম্পের, পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও আপাতত কোনও চুক্তিতে যেতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত এখনও যথেষ্ট পাকাপোক্ত বা গ্রহণযোগ্য নয়। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে আসতে চাইলেও তিনি এখনই তাতে রাজি নন, কারণ শর্তগুলো এখনও যথাযথভাবে তৈরি হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য যে কোনও সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত অত্যন্ত শক্তপোক্ত ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। তাঁর মতে, এমন শর্ত দরকার যা ভবিষ্যতে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তার সুযোগ রাখবে না। যদিও নির্দিষ্ট শর্ত কী হবে তা তিনি প্রকাশ করেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তেহরানকে যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, সেটিই হবে আলোচনার ক্ষেত্রে এক অনড় বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে কোনও আপসের সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আরব দুনিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবে ওয়াশিংটন সাড়া দেয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনটি পৃথক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, আলোচনার প্রস্তাব এলেও মার্কিন প্রশাসন কার্যত তা নাকচ করে দিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন সময় ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। প্রথমদিকে তিনি বলেছিলেন, সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। পরে তাঁর দাবি ছিল, মার্কিন সেনা নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে এবং ইরানে আঘাত হানার মতো বড় লক্ষ্য আর অবশিষ্ট নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি এই দ্বীপ থেকেই হয়। হামলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে। এরপরও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সেখানে আবারও হামলা হতে পারে। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, দ্বীপটি ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, যার বেশিরভাগই ইরানের নাগরিক। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয়ে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর জ্বালানি সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top