রাজ্য – স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ এক নজিরবিহীন ভোটদানের সাক্ষী থাকল। লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দুই দফা শেষে রাজ্যে গড় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার উচ্চ ভোটদানের ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় দফাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ বুথমুখী হন। ফলে দুই দফা মিলিয়ে রাজ্যে ভোটদানের হার ইতিহাস গড়ে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলার ভোটপর্বকে কেন্দ্র করে যে হিংসা ও অশান্তির অভিযোগ উঠে আসত, এবারের নির্বাচনে তার চিত্র অনেকটাই আলাদা ছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রশংসাও করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচন সর্বোচ্চ ভোটদানের এক ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি করেছে। তাঁর মতে, উৎসবের মতো পরিবেশে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ভোটদানের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা, ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আস্থা এই সাফল্যের অন্যতম কারণ। কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চ ভোটদানের হার নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনমতের আরও স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটাতে সাহায্য করবে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এই রেকর্ড ভোটদানের ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


















