বিদেশ – সাম্প্রতিক কিছু গোয়েন্দা-সূত্র ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ৩৮ দিনের প্রক্সি ও সরাসরি সংঘর্ষে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই সব রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ এতটাই বেড়েছে যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল সিস্টেমের মজুত প্রায় তলানিতে এসে পৌঁছেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও পরবর্তীতে যুদ্ধের বিস্তার বাড়ায় ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। এমনকি কিছু অনুমানে বলা হচ্ছে, মোট ব্যয়ের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বিপুল অঙ্কে পৌঁছেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই সংঘাতে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক ‘টমাহক’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলির প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইলও ব্যাপকভাবে খরচ হয়েছে, বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে।
কিছু সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই বিপুল ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু মিসাইল সিস্টেমের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মত দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা আক্রমণেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং রানওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত লাগে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ক্ষতির কারণে কয়েকটি ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য আলোচনা চলছে বলে কিছু সূত্র জানিয়েছে, যাতে অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক পরিকাঠামো মেরামত করা যায়।
সব মিলিয়ে, এই সংঘর্ষ ঘিরে যে ধরনের আর্থিক ও সামরিক চাপের কথা উঠে আসছে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এ ধরনের তথ্যের অনেকটাই এখনও বিভিন্ন সূত্রভিত্তিক ও যাচাইসাপেক্ষ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।


















