কার্শিয়াংকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি পর্যটনে নতুন উদ্যোগ, দার্জিলিং হিমালয়ান রেল ও বন দফতরের যৌথ পরিকল্পনা

কার্শিয়াংকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি পর্যটনে নতুন উদ্যোগ, দার্জিলিং হিমালয়ান রেল ও বন দফতরের যৌথ পরিকল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


উত্তরবঙ্গ – পাহাড়ি পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেল এবং বন দফতর। কার্শিয়াংকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে। সবুজ চা-বাগান, পাইন বনের নীরবতা, ঐতিহ্যবাহী রেডিও স্টেশন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত স্থান—প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ কার্শিয়াংকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দার্জিলিং জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র কার্শিয়াংকে ঘিরে রয়েছে একাধিক আকর্ষণ। এখানে রয়েছে Darjeeling Himalayan Railway-এর সদর দফতর, ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনের ওয়ার্কশপ ও মিউজিয়াম, পাশাপাশি ডাওহিল ফরেস্ট, পুরনো রেডিও স্টেশনসহ নানা দর্শনীয় স্থান। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগানের বিস্তীর্ণ সবুজ আর ডাওহিলের রহস্যময় বনভূমি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। গিদ্দাপাহাড়ের মতো ঐতিহাসিক স্থানও এই অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়িয়েছে, যেখানে একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু অবস্থান করেছিলেন। পাশাপাশি এই অঞ্চল ‘হোয়াইট অর্কিড’-এর জন্যও পরিচিত।
মঙ্গলবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেল ও বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ ভ্রমণ কর্মসূচি। এই সফরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৫ জন ট্যুর অপারেটর অংশ নিচ্ছেন। কখনও গাড়িতে, কখনও টয়ট্রেনে করে তাঁদের ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে কার্শিয়াং ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। টয়ট্রেনের ইতিহাস, চা-বাগানের ঐতিহ্য এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে এই সফরে। পাশাপাশি ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতাও রাখা হয়েছে কর্মসূচিতে।
এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’, যার মাধ্যমে পর্যটকদের পাহাড়ি জীবনের প্রকৃত স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের বড় অংশ শুধুমাত্র দার্জিলিং ঘুরে আবার অন্য গন্তব্যে চলে যান। সেই প্রবণতা বদলাতে কার্শিয়াংকে নতুনভাবে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে শেরপা ও গোর্খা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে কার্শিয়াংকে আরও জনপ্রিয় করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তাঁর মতে, কার্শিয়াংকে শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে না দেখে, পর্যটকদের এখানে থেমে পাহাড়ের প্রকৃতি ও ইতিহাস বোঝার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের পরিষেবা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
অন্যদিকে বন দফতরের কার্শিয়াং বিভাগের আধিকারিক দেবেশ পান্ডে জানান, এই উদ্যোগ বিশ্ব হেরিটেজ টয় ট্রেনের কারিগরি দক্ষতা এবং বাংলার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মেলবন্ধন। বনবস্তি এলাকার মানুষদের সরাসরি এই পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পর্যটন বিশেষজ্ঞ রাজ বসুর মতে, দার্জিলিং পর্যটন অনেকটাই দ্রুতগামী হয়ে পড়েছিল, ফলে পর্যটকেরা পাহাড়ের প্রকৃত সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারা থেকে দূরে চলে যাচ্ছিলেন। তাঁর মতে, এই নতুন উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।
সব মিলিয়ে, কার্শিয়াংকে কেন্দ্র করে এই নতুন উদ্যোগ পাহাড়ি পর্যটনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top