পানিহাটি: রাতের অন্ধকারে নয়, দিনের আলোতেই অনুমোদিত নকশা অমান্য করে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ উঠছে পানিহাটিতে। কোথাও G+3-এর অনুমোদন থাকলেও নির্মাণ পৌঁছে যাচ্ছে G+5 পর্যন্ত, আবার কোথাও সরু রাস্তার পাশেই নিয়ম না মেনে বহুতল তৈরির অভিযোগ। এমন একাধিক নির্মাণের ছবি, ঠিকানা ও তথ্য সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। অভিযোগের পোস্ট নজরে আসার পর পানিহাটি পুরসভার কাছে রিপোর্ট তলব করেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই রিপোর্ট মন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।
পানিহাটির বাসিন্দা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি একাধিক নির্মাণের ছবি ও ঠিকানা দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরের সামনেই কীভাবে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ এগিয়ে চলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হলধর বসু রোডের একটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁর দাবি ছিল, সরু রাস্তার পাশে অনুমোদনের বাইরে বহুতল তৈরি হচ্ছে। পুরসভার রিপোর্টেও সেখানে G+3-এর অনুমোদিত প্ল্যান থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে, অথচ নির্মাণ G+5 পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
একই অভিযোগ উঠেছে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর দেশবন্ধু নগরের একটি নির্মাণ নিয়েও। সেখানেও G+3-এর প্ল্যান অনুমোদিত থাকলেও G+5 পর্যন্ত নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি পুরসভাকে জানানো হলেও যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলির ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পানিহাটিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন মামলার নথিতেও পানিহাটি পুরসভা এলাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি মামলায় আদালতের সামনে থাকা পুরসভার পরিদর্শন রিপোর্টে G+3-এর অনুমোদন থাকা একটি ভবন G+4 অবস্থায় পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন উঠছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ যখন প্রকাশ্যেই এগিয়ে চলেছে, তখন পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বা ওভারসিয়ারদের নজরে তা এল না কেন? সমাজমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মন্ত্রীর রিপোর্ট তলবের ঘটনায় সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি পানিহাটি জুড়ে এমন নির্মাণের সংখ্যা নিয়ে ওঠা অভিযোগও প্রশাসনের নজরে এসেছে।




















