কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বা AJUP-এর চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণী অভিনেতা তথা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগম’ বা TVK-এর প্রধান বিজয় থলপতির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে হাত মেলানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। TV9 বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, বাংলায় TVK-র সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আগ্রহী।
বিজয়ের TVK ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি তৈরি করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরে দলের প্রথম রাজ্যস্তরের অফিস খোলা হয়েছে। যদিও TVK-র রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই মুহূর্তে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি নামার পরিবর্তে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের TVK-র সঙ্গে কাজ করার আগ্রহকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলার প্রচলিত কংগ্রেস বা তৃণমূল-কেন্দ্রিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তিনি।
কংগ্রেসের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানান, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তাঁর কথায়, “আমি ৩০ বছর কংগ্রেস করেছি। অধীর চৌধুরী যতদিন কংগ্রেসের নেতা রয়েছেন, কোনও প্রশ্নই ওঠে না কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার।”
তৃণমূল কংগ্রেস নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন AJUP চেয়ারম্যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিষেকের রাজনীতির সমালোচনা করেন। হুমায়ুনের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “মমতা-অভিষেক দিল্লিতে গিয়েছেন, অভিষেকের কথা আমাদের খুবই ক্ষতি হয়েছে।”
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর AJUP ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে পৃথক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে AJUP-র সঙ্গে AIMIM-এর জোট ঘোষণা হলেও পরবর্তীতে সেই জোট ভেঙে যায় এবং AIMIM একাই নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপরও বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে AJUP। সাম্প্রতিক সময়ে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও হুমায়ুন কবীর সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর TVK-র সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহযোগিতার ইঙ্গিত তাই নতুন করে নজর কেড়েছে। তবে TVK বা বিজয় থলপতির তরফে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। ফলে আপাতত এটি হুমায়ুন কবীরের প্রকাশ করা রাজনৈতিক আগ্রহ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




















