আসানসোল: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় রামধনু রঙে সাজানো হচ্ছে রাস্তা ও উড়ালপুল। গড়িয়াহাট, চিংড়িঘাটার মতো এলাকার রঙিন রাস্তার ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের এই নতুন সাজ নজর কাড়লেও, রাস্তা রং করতে সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সেই বিতর্কের জবাব দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, এই কাজে সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করা হয়নি।
এদিন আসানসোলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার করে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলে, তেমনই শহরকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “পুজো এলেই বাঙালি যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার করে নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলে, ঠিক সেভাবেই নিজের শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে। শহরকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব প্রতিটি শহরবাসীর।”
রং করার খরচ কোথা থেকে এল?
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাস্তা রং করার খরচ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে পুরমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন রং প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর জন্য সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করতে হয়নি।
অগ্নিমিত্রা আরও জানান, আগে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে মানুষের সাজসজ্জা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। সেই সৌন্দর্যবোধ থেকেই এখন শহরকে সাজিয়ে তোলার ভাবনা এসেছে বলে ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী। দুর্গাপুজো উপলক্ষে শহরের রাস্তা ও ব্রিজগুলিকে রঙিন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছয় মাস থাকবে রঙিন সাজ
পুরমন্ত্রীর বক্তব্য, রাস্তার এই রং শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, এর সঙ্গে বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাও জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, রঙিন এই সাজ প্রায় ছয় মাস স্থায়ী হবে।
তবে রঙিন রাস্তার ছবি ঘিরে একদিকে যেমন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই উঠেছে খরচ, রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন। পুরমন্ত্রীর বক্তব্যে অর্থের উৎস নিয়ে ব্যাখ্যা মিললেও, প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যয় ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




















