কলকাতা: পুজোর আগে শহর সাজাতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে গড়িয়াহাট, চিংড়িঘাটা-সহ একাধিক রাস্তা ও ফ্লাইওভারে রং করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন রং করা রাস্তা ঘিরে নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে। বুধবার দুপুরে হালকা বৃষ্টির মধ্যেই চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে বাইক পিছলে যাওয়ার ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করল প্রশাসন। এবার বৃষ্টি হলে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে বাইক চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে একাধিক বাঁক রয়েছে। বৃষ্টির সময় সেখানে বাইক স্কিড করার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে বৃষ্টি হলে ওই উড়ালপুলে বাইক উঠতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। বুধবারের ঘটনার পর ফ্লাইওভারে তড়িঘড়ি স্পিডব্রেকার বসানো এবং রং তুলে ফেলার কাজও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার বাইক পিছলে যাওয়ার ঘটনায় অনেকেই ফ্লাইওভারে নতুন করে করা রংকে দায়ী করেছেন। নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, বৃষ্টির সময় রং করা রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে উঠতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঙ্গে রঙের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এই বিষয়ে বুধবার পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে অয়েল পেইন্ট নয়, অ্যান্টি-স্কিড পেইন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উড়ালপুলের দেওয়ালে যে কালো-হলুদ রং করা রয়েছে, সেটি অয়েল পেইন্ট। সেখান থেকে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও এসেছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি পৌঁছেছে। কেএমডিএ, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং দমকলের ডিজি অনুজ শর্মার কাছে খবর পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার ঘিরে এই বিতর্কে এখন মূল প্রশ্ন, বৃষ্টির সময় বাইক চলাচলে ঝুঁকি কতটা এবং কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের তরফে নেওয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি রাস্তার পৃষ্ঠতল ও রং ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন যাত্রীরা।




















