
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম,২৯ শে আগস্ট : বীরভূমে আবার তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙ্গে যায় সাহাপুরের রেঙ্গুনী গ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ বদরুদ্দোজার বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতেই মজুদ ছিল বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক। যার জেড়েই এই বিস্ফোরণ।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে উড়ে গিয়ে পড়ে বাড়ির ছাউনি। এমনকি বিস্ফোরণস্থলের পাশের বাড়ির দেওয়ালের চারদিকে ধরেছে ফাঁটল।

পাশের বাড়ির গৃহবধূ বাতাসি বাউরী জানান, “ওই বাড়িতে এক বস্তা বোমা মজুদ করা ছিল। এই বোমা থেকেই এই দুর্ঘটনা। আমাদের বাড়ির দেওয়াল চারিদিকে ফেটে গিয়েছে, যেকোনো সময় বাড়িটি ভেঙে পড়তে পারে। আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাবো এখন। পুলিশ এসেছিল, দেখে চলে গিয়েছে।”
গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাতে ওখানে মিটিং হয়েছিল। বোমাগুলি আগে থেকেই তৈরি করে রাখা ছিল। আর তারপর বোমাগুলি ঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়া হয় গতরাতে। তারপর আজ সকালেই বিস্ফোরণ।
যদিও ঘটনার বিষয়ে এলাকার তৃণমূল সভাপতির মেয়ে সাহাপুরের পঞ্চায়েত প্রধান হাইতুন্নেসা খাতুন দাবি করেছেন, “ঘটনার বিষয়ে আমার বাবার কোন কিছু জানা নেই। যে ঘরে বিস্ফোরণ হয়েছে সেই ঘরটির দরজা জানলা খোলা ছিল। বাবা সকালে উঠে দেখতে পায় এমন ঘটনা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, “আমার বাবা এবং আমাকে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দলের বিপক্ষ নেতারা এবং বিরোধীদের চক্রান্ত করছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র কুড়ি হাত দূরেই রয়েছে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রতিদিন এলাকার খুদে পড়ুয়াদের ভিড় জমাতে দেখা যায় সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আজ সম্পূর্ণ পড়ুয়া শূন্য। এ বিষয়ে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকা বন্দনা দে মণ্ডল জানান, “অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে বিস্ফোরণের ফলে আজ আতঙ্কে কোন ছাত্র-ছাত্রী আসেনি। এই সকল পড়ুয়ারা প্রতিদিন আসে।”


















