রাজ্য – বসন্তের রঙে মাতোয়ারা চারপাশ। আর দোল মানেই শিশুদের উচ্ছ্বাস। খুদে মন রঙের আবদার করলেই অনেক সময় বাবা-মায়েরাও গা ভাসিয়ে দেন আনন্দে। কিন্তু সামান্য অসতর্কতাই শিশুর কোমল ত্বক ও স্বাস্থ্যে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই রঙের উৎসবে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
বাজারচলতি লাল, নীল বা সবুজ রঙে প্রায়শই মেশানো থাকে সীসা (Lead), পারদ (Mercury) বা ক্রোমিয়ামের (Chromium) মতো ক্ষতিকারক ভারী ধাতু। শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলেই ত্বকে প্রদাহ, র্যাশ বা তীব্র অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই অ্যালার্জি মারাত্মক আকার নিয়ে অ্যানাফাইল্যাকটিক শকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। রং খেলার পর যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা বা ঢোক গিলতে সমস্যা হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দোকানে পাওয়া অতিরিক্ত চকচকে আবির ব্যবহার না করাই ভালো। এই ঝলক আনতে অনেক সময় আবিরে মেশানো হয় কাঁচের মিহি গুঁড়ো। যা শিশুর নরম ত্বকে ঘষা লেগে ক্ষত তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ জল নিয়ে খেলা করলে ঠান্ডা লাগা বা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
রঙ খেলার সময় অসাবধানতায় চোখে আবির ঢুকে গেলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। যেসব শিশুর হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আবিরের গুঁড়ো শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শিশুদের জন্য ভেষজ বা হার্বাল রং ব্যবহার করাই নিরাপদ। ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি প্রাকৃতিক আবির তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চিকেন পক্স বা হাম বাড়তে দেখা যায়। অনেকের ভুল ধারণা, পক্স বা হাম হলে দোল খেললে নাকি রোগ সেরে যায়। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বিপজ্জনক ধারণা। এই রোগগুলি ছোঁয়াচে। শরীরে জ্বর বা র্যাশ থাকলে রং খেললে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে বিশ্রামে রাখা এবং পর্যাপ্ত জলপান করানোই শ্রেয়।
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। রং খেলার সময় ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অপরিচ্ছন্ন জল ব্যবহার করবেন না। চোখে রং ঢুকলে বারবার পরিষ্কার জলের ঝাপটা দিন। রং ধোয়ার পর ত্বকে প্রদাহ হলে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সমস্যা বাড়লে ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের কাছে যান। চোখ বা নাক দিয়ে রং ঢুকলে ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি বা ফুসফুসের জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই সবসময় সতর্ক থাকুন। জ্বরের সঙ্গে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, উৎসবের আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তার সঙ্গে জুড়ে থাকে নিরাপত্তা। আপনার সন্তানের সুরক্ষাই হোক দোলের রঙিন আনন্দের প্রথম অগ্রাধিকার।



















