বেজিং: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন আর শুধু ছবি, লেখা কিংবা ভিডিও তৈরির প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিনোদনের দুনিয়াতেও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে এই প্রযুক্তি। আর তার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে এক নতুন ধরনের বাজার। চিনে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাঁরা নিজেদের মুখের আদল বা ‘facial likeness’ AI-নির্ভর নাটক, শর্ট ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন।
অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজের মুখের আদল ব্যবহারের লাইসেন্স দিচ্ছেন AI কনটেন্ট নির্মাতাদের। সেই মুখের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে তৈরি করা যেতে পারে সম্পূর্ণ নতুন কোনও চরিত্র। সেই চরিত্রকে কেন্দ্র করে ছোট নাটক, বিজ্ঞাপন, শর্ট ভিডিও বা অন্য কোনও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি হতে পারে। ফলে সরাসরি শুটিংয়ে অভিনেতা বা মডেল হিসেবে অংশ না নিয়েও নিজের চেহারার আদলের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার পিছনে রয়েছে আর্থিক সম্ভাবনা, কিন্তু একইসঙ্গে রয়েছে একাধিক ঝুঁকিও। কারণ নিজের মুখ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া মানে শুধু একটি ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নয়। AI-এর সাহায্যে সেই মুখকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও চরিত্র, পরিস্থিতি বা গল্পের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। ফলে কোথায়, কীভাবে এবং কী ধরনের কনটেন্টে মুখের আদলটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘consent’ বা স্পষ্ট সম্মতি। কোনও ব্যক্তি যদি আগে থেকেই জানেন তাঁর মুখ কী কাজে ব্যবহার করা হবে, কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে এবং এর বিনিময়ে তিনি কী পাবেন, তাহলে বিষয়টি আইনি ও নৈতিক দিক থেকে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই কারও ছবি বা ভিডিও থেকে মুখের আদল নিয়ে AI কনটেন্ট তৈরি হলে তৈরি হতে পারে গুরুতর সমস্যা।
AI-এর যুগে তাই ‘ডিজিটাল পরিচয়’ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। একজন মানুষের মুখ তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তির সাহায্যে সেই মুখ এমন কোনও পরিস্থিতি বা চরিত্রে ব্যবহার করা সম্ভব, যার সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাস্তব জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। নতুন এই বাজার যত বাড়ছে, ততই মুখের ব্যবহারে স্পষ্ট সম্মতি, নির্দিষ্ট শর্ত এবং ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।




















