কলকাতা: রাজ্যে শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি, ২০২৬’। এই নীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে।
নতুন শিল্পনীতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফে নিয়োগকর্তার দেওয়া অর্থের একাংশ সরকার ফিরিয়ে দেবে। যোগ্য এমএসএমই সংস্থাগুলিতে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফের ১০০ শতাংশ অর্থ ১০ বছর পর্যন্ত প্রতিপূরণ করবে রাজ্য। পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ হবে ৫০ শতাংশ।
এ ছাড়া, ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত ইপিএফের ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষদের জন্য ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির শর্তে ইপিএফ বাবদ আর্থিক সহায়তা মিলবে।
শুধু কর্মসংস্থান নয়, শিল্পে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতেও একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে নতুন নীতিতে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন, অনুমোদন ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সময়বদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পর্যটন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
রাজ্যের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলিতে শিল্প স্থাপন এবং বন্ধ বা রুগ্ন শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও বিশেষ উৎসাহ দেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার।




















