
নিজস্ব সংবাদদাতা,উত্তর ২৪ পরগনা ,২৯ শে আগস্ট : চলন্ত ট্রেনের সামনে স্ত্রীকে ধাক্কার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।ঘটনাস্থলেই মৃত্যু গৃহবধূর।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়া স্টেশনে l স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের পরিবারের l
জানাযায় , প্রথম পক্ষের স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর তনিমা মুখোপাধ্যায় নামে ওই গৃহবধুর সাথে বছর দেড়েক আগে ইছাপুর প্রভাস পল্লীর বাসিন্দা অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হয়।তনিমার প্রথম পক্ষের একটি পাঁচ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। তনিমা কাঁচরাপাড়া শিবানী হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে অরিজিতের সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে নানান কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। সে কারণেই তার প্রথম পক্ষের পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে ইছাপুর নবাবগঞ্জের মারিকপাড়া এলাকায় বাপের বাড়িতেই থাকতো তনিমা। এখান থেকেই কাঁচরাপাড়ায় তার কর্মস্থলে যাওয়া আসা করত।
প্রতিদিনকার মত আজও সুস্থ স্বাভাবিক ভাবেই সে কাঁচরাপাড়া শিবানী হাসপাতালে কাজের জন্য বের হয় বাড়ি থেকে। এরপর বিকেলে বাপের বাড়িতে নৈহাটি জিআরপি র পক্ষ থেকে ফোনে জানানো হয় তাদের মেয়ের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। সেই খবর শোনা মাত্রই তারা নৈহাটি জিআরপি তে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মৃতার বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ তনিমার স্বামী অরিজিতই ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে খুন করেছে। কারণ তাকে ছেড়ে যখন বাপের বাড়িতে থাকা শুরু করে তানিমা তারপর থেকেই তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত অরিজিৎ। সেই রকমই আজও তনিমা যখন নিজের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিল, সেই সময় সেখানে গিয়েও তাকে উত্ত্যক্ত করছিল। সেখানে তাদের দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছে তারা। এরই মধ্যে তনিমা কাঁচরাপাড়া স্টেশনে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেন ধরতে আসার সময় ডাউন কল্যাণী লোকাল সামনে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অরিজিৎ।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে এই ঘটনা আত্মহত্যার ঘটনা। যদিও মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অরিজিতের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তনিমার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অরিজিৎ গা ঢাকা দিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে নৈহাটি পুলিশ।


















