চোখের জলে শেষ মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়, শেষ ম্যাচেও গোল-অ্যাসিস্টে বেনিনকে ৩-০ হারাল আর্জেন্টিনা

চোখের জলে শেষ মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়, শেষ ম্যাচেও গোল-অ্যাসিস্টে বেনিনকে ৩-০ হারাল আর্জেন্টিনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বুয়েনস আয়ার্স

চোখের জলে শেষ হল এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। আর বিদায়ী ম্যাচেও নিজের চেনা ছন্দে দলকে জেতালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাল আর্জেন্টিনা। মেসি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন আরও দু’টি।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর এটাই ছিল মেসির প্রথম এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০৮তম ম্যাচে দেশের জার্সিতে নিজের ১২৬তম গোলটি করলেন তিনি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষে ১২৬ গোল ও ৭০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অ্যাসিস্টদাতা হিসেবেই বিদায় নিলেন ৩৯ বছরের মেসি।

ম্যাচ শুরুর আগেই আবেগঘন হয়ে ওঠে মনুমেন্টাল। জাতীয় সঙ্গীতের সময় চোখে জল দেখা যায় মেসির। ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে তাঁকে ঘিরে ছিল বিশেষ বিদায়ী আয়োজন। মাঠে মেসির শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলতে গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল নীল-সাদা আবেগ।

প্রথমার্ধ অবশ্য গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়। আর্জেন্টিনা একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও বেনিনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। মেসির কাছেও সুযোগ এসেছিল, কিন্তু প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের মুখ খুলতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বরং বেনিনও কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এই গোলটির আবেগও ছিল আলাদা, কারণ মেসির পাশাপাশি ওতামেন্দিও এদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলছিলেন। গোলের পর তাঁকে তুলে নেওয়ার সময় সতীর্থ ও দর্শকদের কাছ থেকে আসে আবেগঘন অভিবাদন।

এরপর ৬১ মিনিটে এল মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। ডানদিক থেকে তাঁর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে ব্যবধান ২-০ করেন নিকো পাজ। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার প্রথম দুই গোলেই সরাসরি জড়িয়ে গেল মেসির নাম।

তারপর এল সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৭১ মিনিটে বক্সের মধ্যে আগুস্তিন জিয়ের বিরুদ্ধে ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক নিতে এগিয়ে এলেন মেসি। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি করলেন এলএমটেন।

মেসির গোলের পর গোটা দল ছুটে আসে তাঁকে ঘিরে। সতীর্থদের সঙ্গে সেই উদযাপনের দৃশ্যই যেন হয়ে উঠল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ অধ্যায়ের প্রতীক। শেষ ম্যাচেও গোল, দু’টি অ্যাসিস্ট এবং ৩-০ জয়—এর চেয়ে বর্ণময় বিদায় হয়তো কল্পনা করাও কঠিন।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারেননি মেসি। সতীর্থ, সমর্থক এবং পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের স্মৃতি ফিরে দেখেন তিনি। ২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৭০ অ্যাসিস্ট, বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা—অসংখ্য সাফল্যের পর অবশেষে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন সেই ফুটবলার, যাঁর সঙ্গে দেশের ফুটবলের এক দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।

মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ। তবে তাঁর ফুটবলযাত্রা এখানেই থামছে না। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়লেও ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে এখনও তাঁকে দেখা যাবে। আর আর্জেন্টিনার কোটি কোটি সমর্থকের কাছে ৬ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে গেল ‘মেসির শেষ রাত’ হিসেবে—যে রাতে বিদায়ের মঞ্চেও নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন মনুমেন্টালকে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top