নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই, ভোটার-আধার-প্যান এককভাবে যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাই কোর্ট

নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই, ভোটার-আধার-প্যান এককভাবে যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাই কোর্ট

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাউকে বিদেশি বলে সন্দেহ করা হলে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই। রাষ্ট্রের উপর সেই প্রমাণ দেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। একইসঙ্গে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল—এগুলির কোনওটিই এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জমির মালিকানা বা রাজস্ব সংক্রান্ত নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। একইভাবে ভোটার কার্ড, আধার, প্যান, ব্যাঙ্ক রেকর্ড বা জমির দলিল মূলত পরিচয় বা অন্যান্য প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নথি। নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হবে শুধুমাত্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ এবং বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারার বিধান অনুযায়ী। কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেই সন্দেহ দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপরই বর্তায় বলে আদালত জানিয়েছে।

মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, মামলাকারীর ভাইপো বাংলাদেশি নাগরিক এবং পুলিশি জেরার সময় তিনি নিজেই তা স্বীকার করেছিলেন। সেই স্বীকারোক্তির ভিডিও রেকর্ডিংও তদন্তকারী সংস্থার কাছে রয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। আইন অনুযায়ী তাঁকে ডিটেনশন শিবিরে রাখা হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলা দায়ের করেন সুমন মোল্লা। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ১৮ জুন তাঁর ভাইপোকে বেআইনিভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে ডিটেনশন শিবিরে রেখেছে। ভাইপো ভারতীয় নাগরিক—এই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে তিনি আদালতে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, দাদুর আমলের জমির নথি, পারিবারিক কাগজপত্র এবং এক আত্মীয়ের পাসপোর্টসহ একাধিক নথি পেশ করেন। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, উপস্থাপিত নথিগুলির কোনওটিই এককভাবে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি আইন-সংক্রান্ত বিধানের উল্লেখ করে আদালত পুনরায় স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top