নয়াদিল্লি
বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ আমেরিকার নীতিগত অবস্থানের আমূল পরিবর্তন এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এমনই মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মিউনিখ লিডার্স মিটিংয়ে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জয়শঙ্করের কথায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মূলত আমেরিকার ‘র্যাডিক্যাল রিপজিশনিং’-এর দ্বারা চিহ্নিত। তাঁর ব্যাখ্যা, ওয়াশিংটনের এই পরিবর্তন তাদের নিজেদের বেছে নেওয়া নীতির ফল। এর জেরে আমেরিকা এক অর্থে ‘ইচ্ছা করেই আরও একাকী শক্তি’তে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শুধু আমেরিকার পরিবর্তন নয়, বিশ্ব রাজনীতির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিনের উত্থানের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, চিন নিজেকে একটি ‘অনন্য’ দেশ হিসেবে দেখে এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেই আত্মপরিচয়ের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিরও মিল রয়েছে। চিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু আমেরিকা ও চিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের হাতে থাকা অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও অন্যান্য প্রভাবকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনই একই সময়ে পরস্পরের উপর নির্ভরতাও রয়েছে। ফলে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
উদীয়মান ও মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির ভূমিকার কথাও এদিন তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এই দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী আমেরিকা ও চিন—দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার প্রবণতাও থাকবে।
অর্থাৎ, জয়শঙ্করের বক্তব্যে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে আমেরিকার পরিবর্তিত অবস্থান, চিনের উত্থান এবং একাধিক দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সম্পর্ক ও অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ তৈরির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।




















