কলকাতা
শারদোৎসবের আনন্দে যখন মেতে উঠেছে বাংলা, তখনই রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য ভবনের। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২০২। তাঁদের মধ্যে অন্তত সাতজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডেঙ্গির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্য ভবনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১০ হাজার ১৭৭ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম। ২০২৫ সালের একই সময়ে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৬৫২। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর। পুজোর মরশুমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখে মুর্শিদাবাদ শীর্ষে রয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা, যেখানে এখনও পর্যন্ত ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ জন, হুগলিতে ১৩ জন এবং হাওড়ায় ১০ জনের ডেঙ্গি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
কলকাতা পুরসভাও শহরজুড়ে মশা নিধন ও নজরদারিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পুরসভার ৭৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গির নিরিখে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রুখতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, সরকারি ফিভার ক্লিনিকগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জন জ্বরের রোগী চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯২ জনের উপসর্গের ভিত্তিতে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। তবে নমুনা পরীক্ষার পরিসংখ্যানে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে ১৯৩টি ডেঙ্গি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কথা বলা হলেও এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ২০২টি নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ আসার উল্লেখ রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, চলতি মরশুমে রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য সরকারি খাতায় নথিভুক্ত হয়েছে। অক্টোবর মাসেও নতুন করে দু’জন ডেঙ্গি রোগীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ফলে পুজোর আনন্দের মধ্যেও ডেঙ্গি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রুখতে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।




















