উত্তরবঙ্গ – পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল ভারতের পর্যটন শিল্পে। বিশেষ করে দার্জিলিং (Darjeeling)-সহ উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হোটেল ও হোমস্টে ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগল বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ায়।
গত শুক্রবার থেকেই ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৩,২০২ টাকা। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দার্জিলিং ও আশপাশের এলাকায় পর্যটনের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি মূলত হোটেল ও হোমস্টে ব্যবসার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম ও রুম ভাড়া বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক হোটেল মালিক এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, তবে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের মতে, ১ মে’র আগে যেসব বুকিং হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে পুরনো রেট বজায় রাখতে হবে। ফলে ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলি বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানান, এত বড় অঙ্কে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাঁর মতে, খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে, যার ফলে পর্যটকদের খরচও বাড়বে।
দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় খান্না জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে এতে পর্যটকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পের পাশাপাশি ছোট খাবারের দোকান ও হোমস্টেগুলিও এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এখন দার্জিলিংসহ গোটা উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে।




















