কলকাতা – দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায় আটকে ছিল চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই জট কেটে যাওয়ায় দ্রুত গতিতে এগোতে শুরু করেছে প্রকল্প। মাত্র ১২০ ঘণ্টারও কম সময়ে দু’দফায় গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ সফলভাবে শেষ করেছে আরভিএনএল। এর ফলে কলকাতার অরেঞ্জ লাইনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়েছিল ১৫ মে রাত ৮টা থেকে। টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে চলে নির্মাণকাজ এবং তা শেষ হয় ১৮ মে সকাল ৮টায়। এই পর্যায়ে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মধ্যে ২৮ মিটার দীর্ঘ একটি ভায়াডাক্ট বসানো হয়। কংক্রিটের মোট ১০টি অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছিল এই ভায়াডাক্ট। কাজ চলাকালীন ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙামুখী লেন আংশিকভাবে বন্ধ রেখে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
এরপর এক সপ্তাহ বিরতির পর দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হয় ২২ মে রাত ৮টা থেকে। এই ধাপেও ৬০ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা শেষ হয় ২৫ মে সকাল ৮টায়। এবার ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যে ৩৪ মিটার দীর্ঘ আরও একটি ভায়াডাক্ট বসানো হয়। ফলে মোট ৬২ মিটার অংশের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
এই কাজের জন্য ইএম বাইপাসের ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্লক করা হয়েছিল। এতদিন ধরে চিংড়িঘাটার আশপাশে অরেঞ্জ লাইনের প্রায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ আটকে ছিল। তার মধ্যে ৬২ মিটার সম্পন্ন হওয়ায় আরভিএনএল জানিয়েছে, বাকি কাজ করতে আর বড় ধরনের ট্র্যাফিক ব্লকের প্রয়োজন হবে না।
এদিকে ভবিষ্যতের নির্মাণকাজের সুবিধার্থে নতুন একটি ৬০ মিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের পূর্বদিকে কয়েকটি পিলারের মধ্যে কংক্রিট ডেক বসানোর সময় যান চলাচল ঘোরানোর জন্য এই রাস্তা তৈরি করা হবে। সল্টলেক বাইপাস সংলগ্ন খালের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ ও আরভিএনএল যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছে।
চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হওয়ায় এবার ৫০০ টনের বিশাল লঞ্চার মেশিন ধাপে ধাপে ৩২৯ নম্বর পিলারের দিকে এগোবে। সেখানেই নিক্কো পার্ক সংলগ্ন গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে।
নতুন রাস্তা তৈরির কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে। তবে সল্টলেক বাইপাসে পরিবর্তিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে আরও প্রায় দু’মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে চলতি বছরের শেষের দিকেই এই রুটে মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




















