রাজ্য – রাজ্যে আগামী জুন মাস থেকেই চালু হতে চলেছে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ। সরকার সূত্রে খবর, বর্তমানে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। তবে তার আগে তালিকা খতিয়ে দেখার জন্য জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৫ মে-র মধ্যে সমস্ত জেলার কাছ থেকে তালিকা তলব করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার পর বহু নাম বাদ যেতে পারে বলেও খবর।
সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে যেগুলি মৃত ব্যক্তি, অনুপস্থিত ভোটার অথবা তথ্যগতভাবে অসঙ্গত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও সরকারি অনুদানের টাকা যাচ্ছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁরা ভারতের নাগরিক নন বা যাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করা হবে। এছাড়াও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, সরকারি উদ্যোগ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা এবং সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হতে পারে।
যাঁরা আয়কর দেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন না বলে জানা গিয়েছে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রথমে বিডিও এবং এসডিও স্তরে তথ্য যাচাই করা হবে। এরপর সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে জেলাশাসকের দপ্তরে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে।
প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, বিশেষ ভোটার পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’, ‘স্থানান্তরিত’ বা ‘অ্যাবসেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি যাঁরা Citizenship Amendment Act বা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন কিংবা যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের নতুন এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর, চূড়ান্ত তালিকায় কারা থাকেন আর কারা বাদ পড়েন।




















