রাজ্য- আরজি কর কাণ্ডে একসময় যার নাম ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই চিকিৎসক অভীক দে এবার ফের তদন্তের মুখে। থ্রেট কালচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এবার রাজ্যপাল R. N. Ravi অভীক দে’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই আরজি কর সংক্রান্ত একাধিক পুরনো ফাইল খোলা শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে নতুন করে সামনে এল অভীক দে-র নাম।
ইতিমধ্যেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস অফিসার — Vineet Goyal, Abhishek Gupta এবং Indira Mukhopadhyay-কে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিনের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাস্থলও সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
জানা গিয়েছে, সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। আরজি কর ফাইল পুনরায় খোলার পর এবার তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে অভীক দে-কে।
রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী, বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটার মাধ্যমে এসএসকেএম হাসপাতালে পিজিটি করার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। পাশাপাশি কীভাবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে সার্ভিস কোটার সুবিধা নিয়ে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই বিষয়েও পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির চিকিৎসক বিধায়ক Indranil Khan। তিনি জানিয়েছেন, তিলোত্তমার বিচার প্রক্রিয়ায় যাঁরা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, অভীক দে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়গনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও ছিলেন। আরজি কর কাণ্ডের পর তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৩২টি অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল থ্রেট কালচার, মর্গে দুর্নীতি, চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্লাস না করা, হাজিরা না দেওয়া, রিপোর্ট জমা না দেওয়া এবং রোগী না দেখার মতো একাধিক গুরুতর বিষয়।
এই ঘটনায় ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক মহলে।



















