নয়াদিল্লি:
বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে উদীয়মান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, ভারত এখন আর শুধুমাত্র অন্য দেশের উদ্ভাবনের উপর নির্ভর করে থাকতে চায় না। বরং নিজস্ব গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন সমাধান দেওয়াই দেশের লক্ষ্য।
২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলবে এই সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাল মিলিয়ে চলা। বিদেশে নতুন কোনও আবিষ্কার বা প্রযুক্তিগত সাফল্য এলে তা ভারতে পৌঁছতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেত। পরে দেশীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকরা সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করতেন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন এনে ব্যবহার করতেন।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, সেই পরিস্থিতিতে এখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দেশীয় গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন সমাধান তৈরির ক্ষেত্রে ভারত ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। আর এই পরিবর্তনের পিছনে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা, উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিতে ভরসা
ভারতের যুবসমাজের প্রশংসা করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারতের যুবসমাজ আজ যে দক্ষতা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে এবং যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে, তা উৎসাহ জোগানোর মতো।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে জানান, ভারতের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিশ্বের বিদ্যমান প্রযুক্তি গ্রহণ করা নয়। বরং এমন উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করা, যা দেশের মানুষের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের কাজে লাগবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে ভারতের আন্তর্জাতিক ভূমিকা আরও প্রসারিত করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।




















