রাজ্য – বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দুই ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। গোলমালের মধ্যে শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নকশা করা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্মারক প্রতীক বা এমব্লেমে পদাঘাত করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য নষ্ট করার অভিযোগে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদও জানানো হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির উত্তাপও বাড়ে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। একইভাবে কড়া আক্রমণ শোনা গিয়েছিল বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের গলাতেও। তবে সেই অবস্থানের থেকে কার্যত ভিন্ন সুর শোনা গেল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গলায়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক এমব্লেম ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার সময় থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিশেষ খ্যাতি এবং ঐতিহ্য রয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত এমব্লেম ভেঙে ফেলা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বাইরের ছেলেদের ঢুকে পড়ার ঘটনাকে সরকার সমর্থন করে না।
এখানেই নিজের দলের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন অগ্নিমিত্রা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন ঘটনা যে দলের লোকই ঘটাক না কেন, এমনকী তাঁর নিজের দলের কেউ হলেও তিনি তা সমর্থন করবেন না। অর্থাৎ যাদবপুরের ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান নেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন মন্ত্রী।
পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের বিরুদ্ধেও সরব হন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর আবেদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জায়গা করে তোলা উচিত নয়। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনীতিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাখার বার্তাই দেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।



















