কলকাতা
চিকিৎসার বিপুল খরচ সামাল দিতে অনেকেই স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখেন। কিন্তু ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বিমা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। জেনারেল ইনস্যুরেন্স কাউন্সিল (General Insurance Council বা GIC) স্বাস্থ্যবিমায় বাধ্যতামূলক কো-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চিকিৎসার খরচের একটি নির্দিষ্ট অংশ গ্রাহককেই বহন করতে হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিমায় কী এই কো-পেমেন্ট?
কো-পেমেন্ট হল চিকিৎসার খরচ বিমা সংস্থা ও বিমাকারীর মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা। এই নিয়ম চালু হলে চিকিৎসার বিলের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে। বাকি অংশ বহন করবে বিমা সংস্থা, তবে তা পলিসির শর্ত ও কভারেজের উপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গ্রাহককে চিকিৎসার খরচের ১০ শতাংশ দিতে হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এই নিয়ম চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এখনই সব স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক কো-পেমেন্ট চালু হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
গ্রাহকদের খরচ কি বাড়বে?
স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের উপর জিএসটি প্রত্যাহারের ফলে গ্রাহকদের বিমা কেনার খরচ কমেছে। এতে স্বাস্থ্যবিমার প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক কো-পেমেন্ট চালু হলে হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার সময় বিমাকারীকে নিজের সঞ্চয় থেকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনও চিকিৎসার বিল যদি ১ লক্ষ টাকা হয় এবং ১০ শতাংশ কো-পেমেন্টের নিয়ম প্রযোজ্য হয়, তাহলে গ্রাহককে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। বাকি ৯০ হাজার টাকা বিমা সংস্থা দিতে পারে—যদি সংশ্লিষ্ট পলিসির শর্তে সেই কভারেজ থাকে।
এখনই কী করবেন গ্রাহকরা?
কো-পেমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে নতুন স্বাস্থ্যবিমা কেনার আগে বা পুরনো পলিসি নবীকরণের সময় কো-পেমেন্ট, ডিডাক্টিবল, চিকিৎসার সীমা এবং বাদ পড়া খরচের শর্তগুলি ভালো করে দেখে নেওয়া জরুরি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা ও চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দেওয়া অর্থ—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।




















