৬–৭ বছরের মধ্যেই গঙ্গায় তলিয়ে যেতে পারে মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা! আশঙ্কা মুখ্যসচিবের, বিপন্ন রেললাইন থেকে জাতীয় সড়ক

৬–৭ বছরের মধ্যেই গঙ্গায় তলিয়ে যেতে পারে মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা! আশঙ্কা মুখ্যসচিবের, বিপন্ন রেললাইন থেকে জাতীয় সড়ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



মালদহ

গঙ্গার ভাঙন রোখা না গেলে আগামী ছয়-সাত বছরের মধ্যে মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এমনই আশঙ্কার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তাঁর সতর্কবার্তা, পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করা না গেলে মালদহ শহর ও রতুয়ায় জল ঢুকে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে রেললাইন থেকে জাতীয় সড়কেরও। গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার মালদহে যান মুখ্যসচিব।

চলতি বছরের ভারী বৃষ্টির জেরে মালদহের ভূতনিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তার সঙ্গে গঙ্গার অব্যাহত ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নদী ক্রমশ এগিয়ে আসায় বিস্তীর্ণ এলাকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে রবিবার আকাশপথে রতুয়া থেকে ভূতনির চক পর্যন্ত ভাঙনকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন মুখ্যসচিব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দফতরের আধিকারিকরা। এর আগে শনিবার রাজ্য সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেছিল।

পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর মনোজ আগরওয়াল বলেন, “এভাবে চললে আর সাড়ে সাতশো মিটার দূরত্ব ছয়-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গায় মিশে যাবে। মালদহ শহরে জল ঢুকে যাবে। রতুয়ায় জল ঢুকে যাবে। রেললাইন থেকে জাতীয় সড়ক—সব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সমস্যার সমাধানে একাধিক রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁর কথায়, “আমি একা তো এই সমস্যার সমাধান করতে পারব না। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। অর্থের কোনও সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব।”

আগামী দিনে এই বিষয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সেখানে গঙ্গার ভাঙন রোধের বিষয়টি তোলা হবে। কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

গঙ্গার ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে মালদহের জনবসতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top