রাজ্য – তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে রাজ্য দখলের কৌশল নেয়। অতীতের একাধিক রাজ্যের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে সেই অভিযোগ বারবার সামনে আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গেও সেই বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। শাসকদলের দাবি, বাহিনী মোতায়েন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলে।
তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি Shamik Bhattacharya-র সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই অভিযোগকে কার্যত গুরুত্বহীন বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয় নিশ্চিত করতে বিজেপি জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ১ মার্চ থেকেই জোরদার প্রচার শুরু হবে। তাঁর কথায়, এবারের ভোটে দল নিজেদের কৌশলেই লড়বে।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, আগের কয়েকটি নির্বাচনে ফলাফলের নিরিখে এই ইস্যুই বড় ভূমিকা নিয়েছে। যদিও সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, এসব নিয়ে তাঁদের বিশেষ মাথাব্যথা নেই এবং বিজেপি কোনও বাহ্যিক ভরসার উপর নির্ভর করে ভোট লড়ছে না।
নির্বাচন কমিশন বা Election Commission of India ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের নিষ্ক্রিয় রাখা হবে না। অতীতে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে দিকেই নজর দেওয়া হবে বলে কমিশনের বার্তা। এই প্রসঙ্গে শমীকের মন্তব্য, প্রতি বছরই এ ধরনের কথা শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে কী হয় তা সকলেই জানেন। তাঁর দাবি, বিজেপি এবার শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে ভোটের হার বাড়ানোর উপর জোর দেবে।
তিনি আরও বলেন, এসআইআর তালিকা প্রকাশ, বাহিনী মোতায়েন বা কত দফায় ভোট হবে—এসব নিয়ে তাঁদের চিন্তা নেই। বিজেপি নিজেদের সংগঠন ও কর্মসূচির জোরেই লড়াই করবে। তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি কী—সংগঠনের শক্তি, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, কেউ যদি বিজেপিকে ভোট না দিতে চান, তা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তাঁর দাবি, তাতেও রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা আটকানো যাবে না। পাশাপাশি শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে সংখ্যালঘু সমাজকে আত্মসমীক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তুঙ্গে উঠছে। বিজেপির আত্মবিশ্বাসী অবস্থান যেমন আলোচনায়, তেমনই তার অন্তর্নিহিত বার্তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে।



















