কলকাতা – ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল। তৃণমূলের অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের স্ট্রং রুমের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে ভিতরে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বিজেপি নেতা তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক দলীয় কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও দুই দলের কর্মীদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে, এবং তাতে কয়েকজন সাংবাদিক জখম হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং প্রতিটি স্ট্রং রুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত প্রার্থীর উপস্থিতিতেই স্ট্রং রুম সিল করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ স্ট্রং রুমটি বন্ধ করা হয়। এরপর আর কোনও স্ট্রং রুম খোলা হয়নি। যেখানে ইভিএম রাখা রয়েছে, তার বাইরে একই চত্বরে পোস্টাল ব্যালট রাখার জন্য পৃথক স্ট্রং রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ব্যালট এবং ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যালট সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, বিকেল ৪টা নাগাদ স্ট্রং রুম এলাকার করিডরে ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ শুরু হয়, যা আগেই সকল পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসারদের জানানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটকর্মীরাই এই কাজ করছিলেন বলে দাবি কমিশনের।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেন। উল্লেখ্য, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভার স্ট্রং রুম রয়েছে, যেখানে ইভিএম সংরক্ষিত আছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ইভিএম নিরাপদ নয় এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি কারচুপির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বহিরাগতদের স্ট্রং রুমে ঢোকার অভিযোগ তুলে ভিডিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল শিবির, যার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।



















