দেশ – দেশে অনলাইন গেমিংয়ের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে বিস্ফোরক হারে বেড়েছে। কিশোর-কিশোরী থেকে তরুণ প্রজন্ম—স্মার্টফোনের মাধ্যমে গেম খেলার প্রবণতা এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ঘরে বসে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এই প্রবণতা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বেড়েছে আসক্তি, আর্থিক ক্ষতি এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও।
অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইন গেমিং বিনোদনের সীমা ছাড়িয়ে জুয়ার রূপ নিয়েছে। ব্যবহারকারীরা টাকা লাগিয়ে গেম খেলতে শুরু করছেন, যার ফলে বহু ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল, নাবালক-নাবালিকাদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে। অভিভাবকদের অজান্তেই তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থ ব্যয় করছে, যার প্রভাব পড়ছে পারিবারিক সঞ্চয়ের উপর।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই অতীতে কিছু জনপ্রিয় গেমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেগুলির কিছু সংস্করণ নতুনভাবে চালু হয়, তবুও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়। সেই প্রেক্ষাপটে চলতি বছর নতুন গেমিং নীতির ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ মে থেকে অনলাইন গেমিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিভাবকদের জন্য নজরদারির সুবিধা বৃদ্ধি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অনিয়ম দ্রুত জানানো যায়।
এই নীতির অধীনে ‘অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই সংস্থা গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি চালাবে এবং নিয়ম ভাঙলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সব মিলিয়ে, অনলাইন গেমিংকে আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















