বাম আমলের ইংরেজি শিক্ষানীতি নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজা, মন্তব্যে বিতর্কে রাজ চক্রবর্তী

বাম আমলের ইংরেজি শিক্ষানীতি নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজা, মন্তব্যে বিতর্কে রাজ চক্রবর্তী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -;বাম আমলের শিক্ষানীতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফের নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও পরিচালক Raj Chakraborty-র এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সিপিএম আমলে প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি শিক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে একটি প্রজন্ম সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিল—আর সেই প্রভাব তিনি নিজেও অনুভব করেছেন।
রাজ চক্রবর্তীর বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান থেকে পাল্টা সুর চড়িয়েছে। বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক আকার নেয় এবং শিক্ষানীতিকে ঘিরে পুরনো বিতর্ক আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাজ বলেন, সিপিএম জমানায় ইংরেজি শিক্ষা বন্ধ থাকায় পরে ইংরেজি শেখার সময় তিনি ভীষণ সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “যখন পরে ইংলিশ এল, তখন হাবুডুবু খাচ্ছি। ইংরেজির ভয়েই একসময় পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।” তিনি জানান, পরবর্তীতে নিজেই নতুন করে ইংরেজি শেখা শুরু করেন এবং তখন উপলব্ধি করেন—শুরু থেকেই সুযোগ পেলে যোগাযোগ দক্ষতা অনেক সহজ হত। তাঁর মতে, মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাও সমান জরুরি।
নিজের ছেলে ইউভানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ছোট বয়স থেকেই বহুভাষায় দক্ষ হওয়া ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তাঁর ছেলে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি—তিন ভাষাতেই সাবলীল বলেও জানান তিনি।
বাম আমলে প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ শানিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অতীতেও এই বিষয়কে শিক্ষানীতির বড় ভুল হিসেবে তুলে ধরেছেন। রাজ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে বাম শিবিরের পাল্টা দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা আড়াল করতেই শাসকদলের নেতারা বারবার অতীতের প্রসঙ্গ টানছেন। তাঁদের মতে, বাস্তব উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজের মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তর্কের ঝড়। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে বাম আমলের নীতিকে দায়ী করছেন, অন্যদিকে অনেকেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। সব মিলিয়ে, কয়েক দশক পুরনো শিক্ষানীতিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল রাজ্যে—যা আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top