একই দিনে একাধিক আদালতে বোমা হুমকি, তল্লাশিতে তৎপর প্রশাসন

একই দিনে একাধিক আদালতে বোমা হুমকি, তল্লাশিতে তৎপর প্রশাসন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – একই দিনে রাজ্যের একাধিক আদালতে বোমা রাখার হুমকিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল প্রশাসনিক মহলে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট থেকে শুরু করে আসানসোল জেলা আদালত, দুর্গাপুর মহকুমা আদালত এবং মুর্শিদাবাদ জেলা জজ অফিস—পরপর একাধিক জায়গায় বোমা হুমকির খবর সামনে আসে। ইমেল ও ফোন কলের মাধ্যমে হুমকি পাওয়ার পরই আদালত চত্বর খালি করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রথমে হুমকি ইমেল আসে কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে। ইমেলে দাবি করা হয়, আদালত ভবনের ভিতরে বোমা রাখা হয়েছে। ইমেলটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত চত্বর খালি করে দেওয়া হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড ও স্নিফার ডগ। গোটা ভবনে তল্লাশি চালানো হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আসানসোল জেলা আদালতে একই ধরনের হুমকি পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, জেলা জজের মোবাইলে ফোন করে আদালত চত্বরে বিস্ফোরক থাকার দাবি করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আদালত চত্বর খালি করে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতেও হুমকি ইমেল আসে। সেখানে একইভাবে আদালত খালি করে চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ। আদালতের কর্মী, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মুর্শিদাবাদ জেলা জজ অফিসেও একটি হুমকি মেল পাঠানো হয়। অভিযোগ, ওই মেলে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারকদের হস্তক্ষেপ না করার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ ছিল। জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকি জানান, গোটা আদালত চত্বরে স্নিফার ডগ দিয়ে তল্লাশি চলছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি কলকাতা-শিলং উড়ানে বোমা থাকার চিরকুট ঘিরেও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, যদিও পরে সেটি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। তার আগেও দিল্লির একাধিক স্কুলে ধারাবাহিকভাবে ভুয়ো বোমা হুমকির ইমেল পাঠানোর ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আদালতগুলিতে পাওয়া এই হুমকি বার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
কে বা কারা এই হুমকি ইমেল ও ফোন কল করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর চক্রান্ত রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top