দেশ – কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ (women’s reservation) চালুর উদ্যোগে তৎপর। এ জন্য ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে গোপন আলোচনাও শুরু হয়েছে। সরকার পরিকল্পনা করছে, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) শেষ হতেই এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়েছে। ওই বছর সংসদে নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম বিল সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়। তখন ঠিক হয়েছিল, ২০২৯ সালে আইন অনুযায়ী সংসদ ও রাজ্য বিধানসভা এবং বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ কার্যকর হবে। ততদিনে জণগণনা এবং লোকসভা ও বিধানসভাগুলির সীমানা পুনর্গঠন বা দুই ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু সরকার এখন মনে করছে, জণগণনার কাজ শেষ হলেও ২০২৯ সালের মধ্যে সীমানা পুনর্গঠন সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে বহু বছরের জন্য মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা পিছিয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের ভাবনা হলো, সংরক্ষণ সংক্রান্ত অধিনিয়ম এখনই চালু করা। লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ও বিধান পরিষদের এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য চিহ্নিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আসনগুলি কোনও কারণে শূন্য হলে তা মহিলা প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই ভাবনার পেছনে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কাজ করছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই সরকার এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ নীতি বাস্তবায়নের আগে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু করা সরকারের অগ্রাধিকার হতে পারে।
২০২৩ সালে সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল আলোচনা সময়ে বিরোধীরা বারবার দ্রুত কার্যকর করার দাবি তুলেছিল। সরকারপক্ষেরও কিছুজন মনে করেছিলেন, সংরক্ষণ বিষয়টি ফেলে রাখা ঠিক হবে না। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন মহিলা সংগঠনও সরকারের কাছে জোরদার দাবি জানায়। সরকারের শীর্ষ মহল এখন মনে করছে, পূর্ব ঘোষণার থেকে সরে এসে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ এখনই কার্যকর করা সম্ভব। এতে কোনও পক্ষেরই ক্ষতি হবে না।



















