রাজ্য – এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ঘোষণা পিছিয়ে যেতে পারে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল। কারণ প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করছিলেন, সেই সব আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার পরই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার পর ভোট ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে আপাতত সেই সব জল্পনাই ভেস্তে যেতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পণ্ডিচেরিতেও একই সময়ে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১৬ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাঁচ রাজ্যের ভোটের সূচি ঘোষণা করতে পারেন।
বাংলায় ক’দফায় ভোট হবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাত যে বাংলায় অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক দফায় ভোট করানো উচিত। সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে বাংলায় ভোটের দফা বাড়তে বাড়তে এক সময় আট দফা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে কমিশনের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে অতিরিক্ত দফায় ভোট করানো সব সময় প্রয়োজনীয় নয়। ফলে এবারের নির্বাচনে দফা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর, এবার পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট হতে পারে। যদি ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা করা হয়, তবে প্রথম দফার ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিনের সময় দিতে হবে। সেই হিসেব অনুযায়ী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হতে পারে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো চললে এপ্রিল মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, ১৮ মার্চ থেকেই মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার ঘোষণা করা হতে পারে। তবে বাংলার রাজনৈতিক মহলের অনেকের ধারণা, অন্য চারটি রাজ্যে আগে এক দফায় ভোট সম্পন্ন করা হতে পারে এবং তার পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে ৬০ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সেই সব আবেদনের নিষ্পত্তি কীভাবে এবং কবে হবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। গত ১০ মার্চ শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ভোট ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। আদালতে জানানো হয়েছে, মোট ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সিইও দফতরের। তবে বাকি আবেদনের নিষ্পত্তি কবে শেষ হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টির উপর নজর রাখছে সুপ্রিম কোর্টও। ফলে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয় তা আদালতের পর্যবেক্ষণের পরই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।




















