রাজ্য – এসআইআরের খসড়া তালিকায় প্রথমে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পর ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসে। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নতুন তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের তালিকার নিরিখে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৬৩ লক্ষেরও বেশি। পাশাপাশি প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’ (অ্যাডজুডিকেশন) অবস্থায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, সারাবছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কোন বিধানসভা কেন্দ্রে কী উন্নয়ন হয়েছে, জনসংযোগ কেমন হয়েছে, এবং বিপদে-সমস্যায় স্থানীয় নেতৃত্ব কতটা সক্রিয় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই ২৯৪টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকা তৈরি সম্পন্ন করেছে ঘাসফুল শিবির।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, কেন্দ্রের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। রাস্তা, আলো, জল, নিকাশি, সেতু নির্মাণের কাজ থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো প্রকল্প—এসবের সাফল্য প্রচারে তুলে ধরবে দল। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া অর্থ না দেওয়ার অভিযোগও প্রচারে থাকবে বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূলের দাবি, উন্নয়নভিত্তিক কাজের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকে জবাব দিতে চায়। প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হয়নি বলেও দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত। তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরই একসঙ্গে সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। দলের সুপ্রিমোর সম্মতিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এখন নজর নির্বাচন ঘোষণার দিকেই।




















