রাজ্য – ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাতেই কমিশনের এই নির্দেশ সামনে আসে। নন্দিনীর পরিবর্তে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের পদে বসানো হচ্ছে সংঘমিত্রা ঘোষকে।
রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর সরাসরি নজরদারির ক্ষমতা পায় নির্বাচন কমিশন। এই সময়ে প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন আমলা, প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দেওয়ার অধিকার থাকে কমিশনের হাতে। সেই ক্ষমতাবলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোট ঘোষণার রাতেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের একযোগে বদলি প্রশাসনিক মহলে নজিরবিহীন বলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক বা কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকদের বদলির ঘটনা ঘটলেও, এমন গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে একসঙ্গে পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায়নি বলে মত অনেকের।
নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ১৯৯৩ সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। এর আগে তিনি রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের কাজও পরিচালনা করেছেন তিনি। অতীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সেচ দফতরের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে নতুন মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এখন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ও সংঘমিত্রা ঘোষের নেতৃত্বে রাজ্যের প্রশাসন নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে।




















