কলকাতা – বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেও রাজ্যে বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা সামনে আসছে, যার জেরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল কলকাতা পুলিশ। ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে সব থানাকে একগুচ্ছ নির্দেশ পাঠিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরও হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আগাম সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পরই শহরের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই কিছু এলাকায় অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ৪ মে ফল ঘোষণার পর যাতে কোনওভাবেই হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্যই ৮ দফা কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাইরে থেকে লোক এনে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রুখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজ্যে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও কেন হিংসা থামছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বা দেরিতে পৌঁছেছে। আবার কোথাও কোথাও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন অজয় কুমার নন্দা এবং বৈঠকের পর তিনি জানান, নির্বাচন চলাকালীন কলকাতা পুলিশ ভালো কাজ করেছে এবং এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন, যে ক’টি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক, তবে পুলিশ সেগুলির তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সেই লক্ষ্যে ৮ দফা নির্দেশে বলা হয়েছে, সিএপিএফ-এর রুট মার্চ চালু রাখতে হবে, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বজায় রাখা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কোনও হিংসা বরদাস্ত না করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-সহ আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এখন নজর ৪ মে ফল ঘোষণার দিন, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে সেটাই দেখার।




















