কোচবিহার – দ্বিতীয় দফার ভোটের রাতেই রেকর্ড বৃষ্টিতে ভিজেছিল কলকাতা, আর তারই রেশ টেনে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারেও কয়েকদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে ঝড়বৃষ্টি। এই লাগাতার বর্ষণের জেরেই তোর্ষা নদীর জলস্তর বেড়ে ভেঙে গেল ফাঁসিরঘাটের অস্থায়ী সেতু। ফলে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে সেতুটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেসে যায়। তার পর থেকেই বৃহস্পতিবার থেকে ওই সেতু দিয়ে সমস্ত যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে এখন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এখানে একটি স্থায়ী সেতু তৈরি করা হলে এলাকার মানুষের অনেক সুবিধা হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যারও সমাধান হবে।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরাও। ভুট্টা ও ধানের খেতে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান হেলে পড়েছে, আবার কোথাও ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির চাপে বহু কৃষক বাধ্য হয়ে সময়ের আগেই ধান কাটতে শুরু করেছেন। তবুও উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় হতাশা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে, যা আর্থিক দিক থেকে আরও সংকট তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে একদিকে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রও, যার জেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন কোচবিহারের সাধারণ মানুষ।



















