রেজিনগর
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার মুখে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলিকে কার্যত কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে এবং সেই কাজে প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর গণনা হওয়ার কথা।
সেলিমের মূল প্রশ্ন কাউন্টিং এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে। তাঁর দাবি, ১ অক্টোবরের তারিখ দেওয়া একটি চিঠিতে কাউন্টিং এজেন্টদের নাম, তালিকা, ছবি, EPIC এবং পরিচয়পত্রের ফোটোকপি-সহ বিভিন্ন তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সেই চিঠি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পৌঁছেছে ৫ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগের দিন বলে অভিযোগ তাঁর।
সেলিমের বক্তব্য, “এক তারিখের চিঠি—যেখানে বলা হচ্ছে, কাল সকালের মধ্যে সব দলকে তাদের কাউন্টিং এজেন্টের নাম, তালিকা, ছবি, এপিক, আইডেন্টিটি কার্ড—সব ফোটোকপি দিতে হবে। সেটা জানানো হচ্ছে আজ দুপুর দেড়টার সময়।” এই সময়ের ব্যবধান নিয়েই প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। ভোটার তালিকা, SIR-সংক্রান্ত বিষয় এবং বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর চাপ তৈরির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরব হয়েছে। রেজিনগরে ১২ হাজারেরও বেশি SIR-সংক্রান্ত আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সেলিম আরও অভিযোগ করেন, শাসকদল এবং গোটা নির্বাচনী যন্ত্রকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ভোটে কে জিতবে বা হারবে তা ঠিক করবে মানুষই। কিন্তু তার আগে কোনও কেন্দ্রকে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে বলেই তাঁর দাবি।
উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে রেজিনগরের প্রচার। এখন ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং তার পর ৯ অক্টোবর গণনার দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।




















