নন্দীগ্রাম
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব তথা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁদের ছবি পোস্ট করে এক্স-এ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পদক্ষেপের কথা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘লিগাল’ এবং ‘ডিফেমেশন’—দুই ধরনের মামলা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং সুব্রত গুপ্তের বিরুদ্ধে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁদের প্রশাসনিক ভূমিকার বাস্তবতার মিল নেই।
শুভেন্দুর কথায়, “আমরা লিগাল এবং ডিফেমেশন দুটো মামলা করছি, যে বিষয়টা চিফ সেক্রেটারি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মহুয়া মৈত্র বলেছেন। অ্যাডজুডিকেশনে এদের কোনও ভূমিকা ছিল না। ম্যালাইন করতে বলা হয়েছে।” অর্থাৎ, মহুয়ার মন্তব্যকে মানহানিকর বলে দাবি করে আইনি পথে যাওয়ার কথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে মনোজ আগরওয়ালও মহুয়ার এক্স পোস্ট নিয়ে প্রকাশ্যে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মহুয়া তাঁর পোস্টে মনোজ আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্তকে বাংলার SIR-এর ‘সবচেয়ে বড় কারিগর’ বলে উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ কাজ’-এর অভিযোগ তুলেছিলেন। মনোজ আগরওয়াল পাল্টা জানিয়েছিলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ’, এবং মহুয়ার বিরুদ্ধে ডিফেমেশন মামলা করার কথা ভাবছেন।
এদিকে SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের SIR-সংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
ফলে SIR বিতর্কের আবহেই মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন নজর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাস্তবে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং মহুয়া মৈত্র তার কী জবাব দেন।




















