নয়াদিল্লি: ডিজিটাল প্রতারণা ও ভুয়ো ফোনকলের ঘটনা বাড়তে থাকায় ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (CNAP) পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে ফোনে কল আসার সময় কলারের নাম ও নম্বর দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন শনাক্ত করতে সুবিধা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
টেলিকম দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের টেলিকম সংস্থাগুলিকে এই পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পরিষেবাটির উদ্দেশ্য হল, ফোনে কল আসার সময় কলারের পরিচয় সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে আরও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। বিশেষ করে প্রতারণামূলক ফোনকল, ভুয়ো পরিচয়ে যোগাযোগ এবং অচেনা নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক কলের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে কাজ করবে CNAP পরিষেবা?
এই পরিষেবা চালু হলে ইনকামিং কলের সময় কলারের নাম ও ফোন নম্বর স্ক্রিনে দেখা যাবে। কলারের নাম টেলিকম সংস্থার কাছে থাকা গ্রাহকের নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখানোর কথা। ফলে ফোনে কোনও নম্বর সেভ না থাকলেও কলটি কার কাছ থেকে আসছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে পরিষেবাটি চালুর কথা বলা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের আলাদা করে কোনও সেটিংস চালু করতে হবে কি না, তা পরিষেবার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও অপারেটরের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে। ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্কে পরিষেবাটি কীভাবে চালু করা যায়, তা নিয়েও পরবর্তী সময়ে ভাবনাচিন্তা হতে পারে।
তবে ফোনে নাম দেখালেই যে প্রতিটি কল নিরাপদ, তা নয়। কলারের পরিচয় যাচাইয়ের এই ব্যবস্থা প্রতারণা কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সন্দেহজনক ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্কের বিবরণ, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। কোনও ফোনে পরিচিত ব্যক্তি বা সংস্থার নাম দেখালেও প্রয়োজনে অন্য মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা উচিত।
নতুন পরিষেবা চালু হলে অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন শনাক্ত করা আরও সহজ হতে পারে। তবে দেশজুড়ে পরিষেবাটি কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে টেলিকম দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির চূড়ান্ত নির্দেশের দিকে নজর থাকবে।




















