২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে ডিজেলের ঘাটতি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ছে জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ

২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে ডিজেলের ঘাটতি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ছে জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক তেল বাজারের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ডিজেলের মজুত কমতে থাকায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতি বজায় থাকতে পারে। বছরের যে সময়ে সাধারণত ডিজেলের মজুত বাড়ে, সেই সময়ে উল্টো প্রবণতা দেখা যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এর জেরে ভারতে উৎসবের মরসুমে ডিজেলের দাম বাড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজেলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। বছরের শেষ দিকে তেল শোধনাগারগুলি উৎপাদন বাড়ালেও দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিজেলের ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে পরিবহণ, শিল্প এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়।

সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলির জ্বালানি পরিকাঠামো ও পরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও বাজারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। উৎপাদন, শোধনাগারের কার্যক্রম কিংবা ট্যাঙ্কারের চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মজুত ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ডিজেলের সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানির বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পণ্যবাহী ট্রাক, শিল্পক্ষেত্র এবং কৃষি-সহ ডিজেলনির্ভর বিভিন্ন পরিষেবার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্য ও পরিষেবার দামেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের ঘাটতির পূর্বাভাস মানেই ভারতে অবিলম্বে দাম বাড়বে, এমনটা বলা যায় না। দেশের খুচরো জ্বালানির দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, সরকারি নীতি এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির সিদ্ধান্তের মতো একাধিক বিষয়ের উপর। তাই আগামী দিনে ডিজেলের দাম বাড়বে কি না, তা জানতে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও বাজারের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top