কলকাতা:
শীতের মাসেও যদি বাইরে বেরিয়ে গরমের তীব্রতা অনুভূত হয়, আগামী দিনে এমন পরিস্থিতিই আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। Climate Impact Lab-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে চলতি ‘সুপার এল নিনো’-র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক উষ্ণতার পাশাপাশি তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, জুন ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় প্রায় ৪ লক্ষ ৫১ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭—এই ছয় মাসেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাব, আগামী কয়েক মাসে অত্যন্ত গরম দিনের সংখ্যাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
ভারতের জন্যও রয়েছে উদ্বেগের বার্তা। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত মৃত্যুর হিসাব নয়; স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত তাপের কারণে সম্ভাব্য মৃত্যুর একটি গবেষণাভিত্তিক অনুমান।
আশঙ্কা শুধু ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভারতে এই উষ্ণতার প্রভাব গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে যে তাপমাত্রাকে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে সেটিই আরও পরিচিত বাস্তবতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘সুপার এল নিনো’-র এই পূর্বাভাস তাই শুধু কয়েক মাসের আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির দিকেও ইঙ্গিত করছে।



















